শিক্ষকদের শুধু ডিগ্রি নয়, নৈতিকতাও থাকতে হবে: ইউজিসি চেয়ারম্যান
শিক্ষকদের শুধু উচ্চতর ডিগ্রি, গবেষণা ও একাডেমিক দক্ষতা থাকলেই হবে না; তাঁদের নৈতিকতা, সততা, মূল্যবোধ, ন্যায়বোধ ও দায়িত্ববোধও থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ব্র্যাক সিডিএমে ১০ দিনব্যাপী ‘মাস্টার ট্রেইনার’ প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, শিক্ষককে শিক্ষার্থী ও সমাজের মানুষ আদর্শ ব্যক্তি হিসেবে অনুসরণ করেন। তাই একজন শিক্ষকের আচরণ, মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীলতা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ জীবন গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে। শিক্ষকের কাজ শুধু পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীদের চিন্তা, আচরণ, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা।
সম্প্রতি কুমিল্লার একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। শুধু পাঠ্যক্রমে নৈতিকতা বিষয়টি যুক্ত করলেই হবে না, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশও শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলার উপযোগী করতে হবে।
উচ্চশিক্ষার ইতিবাচক রূপান্তরে সরকার ও ইউজিসি যৌথভাবে কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে জানিয়ে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রকাশ করা হবে। এর আওতায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ডিজিটাল সাক্ষরতা, সফট স্কিল, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হবে। আগামী নভেম্বর থেকে কয়েকটি কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করা হচ্ছে, যারা নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
পিএইচডি ফেলোশিপ প্রসঙ্গে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আগামী পাঁচ বছরে প্রতিবছর অন্তত ৫০০ জনকে পিএইচডি ফেলোশিপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বছর গত বছরের তুলনায় ফেলোশিপের সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। তবে আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হলেও কাঙ্ক্ষিত মানের প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না।
গবেষণায় অর্থায়ন নিয়ে তিনি বলেন, দেশে গবেষণার জন্য অর্থ ও সুযোগ নেই—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে গবেষণায় আরও বেশি অর্থায়ন ও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।


