মাদক ও কিশোর গ্যাংকে শিক্ষার্থীদের লাল কার্ড
কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার রোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
কিশোরদের আচরণ ও চলাফেরায় পরিবর্তন দেখা দিলে শুরুতেই তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং ও নজরদারির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা।
রবিবার (৪ অক্টোবর) বসুন্ধরা শুভসংঘ কুমিল্লা জেলা শাখার উদ্যোগে কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী’ সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। এ সময় কলেজের একাদশ শ্রেণির প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন— কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস।
তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার আগে অনেক কিশোরের আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সেই পরিবর্তনগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোনো কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পর শুধু শাস্তির কথা না ভেবে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না; এর প্রভাব পড়ে পরিবার ও সমাজের ওপরও। মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা কমিয়ে নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লার সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান বলেন, কিশোরদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার আগে তাদের সমস্যার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। পরিবারে সময় দেওয়া, নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ তৈরির মাধ্যমে কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখা সম্ভব।
এ ক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে।
বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা ও গোমেতী সংবাদের সম্পাদক মোবারক হোসেন বলেন, কিশোর গ্যাং কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়; এটি সামাজিক সমস্যা। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং কী ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আচরণগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা বাড়াতে হবে।
কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন লিটন বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিলেই হবে না; তাদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
শুভসংঘের কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি জাহিদ পাটোয়ারী বলেন, কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তাদের ইতিবাচক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। খেলাধুলা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো গেলে অপরাধী চক্রের প্রলোভন থেকে তাদের দূরে রাখা সহজ হবে।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজের ইংরেজি বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক মোহাম্মদ ইমরান হোসাইন। এ সময় পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা ও বসুন্ধরা শুভসংঘ কুমিল্লা জেলা শাখার ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. রাকিব হোসেনসহ শুভসংঘের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনার শেষে শিক্ষার্থীরা মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে প্রতীকী লাল কার্ড প্রদর্শন করেন। এ সময় শুভসংঘ কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এইচ এম মহিউদ্দিন শিক্ষার্থীদের কিশোর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের না জড়ানোর আহ্বান জানিয়ে শপথ বাক্য পাঠ করান।.
কিশোরদের আচরণ ও চলাফেরায় পরিবর্তন দেখা দিলে শুরুতেই তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং ও নজরদারির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা।
রবিবার (৪ অক্টোবর) বসুন্ধরা শুভসংঘ কুমিল্লা জেলা শাখার উদ্যোগে কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী’ সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। এ সময় কলেজের একাদশ শ্রেণির প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন— কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস।
তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার আগে অনেক কিশোরের আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সেই পরিবর্তনগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোনো কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পর শুধু শাস্তির কথা না ভেবে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না; এর প্রভাব পড়ে পরিবার ও সমাজের ওপরও। মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা কমিয়ে নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লার সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান বলেন, কিশোরদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার আগে তাদের সমস্যার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। পরিবারে সময় দেওয়া, নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ তৈরির মাধ্যমে কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখা সম্ভব।
এ ক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে।
বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা ও গোমেতী সংবাদের সম্পাদক মোবারক হোসেন বলেন, কিশোর গ্যাং কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়; এটি সামাজিক সমস্যা। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং কী ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আচরণগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা বাড়াতে হবে।
কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন লিটন বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিলেই হবে না; তাদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
শুভসংঘের কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি জাহিদ পাটোয়ারী বলেন, কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তাদের ইতিবাচক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। খেলাধুলা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো গেলে অপরাধী চক্রের প্রলোভন থেকে তাদের দূরে রাখা সহজ হবে।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজের ইংরেজি বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক মোহাম্মদ ইমরান হোসাইন। এ সময় পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা ও বসুন্ধরা শুভসংঘ কুমিল্লা জেলা শাখার ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. রাকিব হোসেনসহ শুভসংঘের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনার শেষে শিক্ষার্থীরা মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে প্রতীকী লাল কার্ড প্রদর্শন করেন। এ সময় শুভসংঘ কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এইচ এম মহিউদ্দিন শিক্ষার্থীদের কিশোর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের না জড়ানোর আহ্বান জানিয়ে শপথ বাক্য পাঠ করান।.


