শিরোনাম

South east bank ad

সংবিধান সংশোধনে বিরোধীদের প্রস্তাব বিবেচনা করবে কমিটি

 প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ অপরাহ্ন   |   মন্ত্রী

সংবিধান সংশোধনে বিরোধীদের প্রস্তাব বিবেচনা করবে কমিটি
সংবিধান সংশোধন নিয়ে বিরোধী দলের মতামত ও প্রস্তাব পেলে তা বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বৈঠকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইনের অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদসহ আমন্ত্রিত প্রায় ৬০ জনের মধ্যে ৪৪ জন অংশ নেন। সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো, বিচার বিভাগের পর্যালোচনার ক্ষমতা, সংবিধান সংশোধনে বিচার বিভাগের এখতিয়ার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে আলোচিত প্রস্তাব অনুযায়ী চারটি বিষয় ছাড়া অন্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিষয়গুলো হলো সংবিধান সংশোধন, অর্থবিল, সরকারের প্রতি অনাস্থা বা আস্থার প্রশ্ন এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বা জাতীয় নিরাপত্তা। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বৈঠকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার কাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে সম্ভাব্য উচ্চকক্ষকে যুক্ত করা এবং উচ্চকক্ষের স্পিকারকে সরকারের প্রধান করার প্রস্তাবও উঠে আসে। তবে এসব প্রস্তাবের কোনোটিই চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।

উচ্চকক্ষ গঠন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে পাঁচজন সদস্য মনোনয়নের প্রস্তাব কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের মনোনয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভিন্নমত থাকায় এ বিষয়ে আরও পর্যালোচনা প্রয়োজন।

বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট পুনর্বিবেচনার বিষয়ে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিরোধী দল চাইলে কোন কোন বিষয়ে ভিন্নমত পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে, তা কমিটিকে জানাতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে আগের সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে বিভিন্ন ত্রুটি থাকায় সেটিকে আইনে পরিণত করা হয়নি। বিষয়টি কমিটির আলোচনায় রয়েছে।

তিনি আরও জানান, জুলাই জাতীয় সনদের ঐকমত্য অনুযায়ী সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বিরোধী দল থেকে মনোনয়নের বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হবে। অন্যদিকে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধানে এ নামে কোনো পরিষদের বিধান নেই।

গণভোটের রায় প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের ম্যান্ডেটকে তারা সম্মান করেন। তবে গণভোটসংক্রান্ত অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করা বাধ্যতামূলক ছিল না বলে তারা মনে করেন। ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী গণভোটের প্রয়োজন হলে বিদ্যমান আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ সাকীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।







BBS cable ad

মন্ত্রী এর আরও খবর: