জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন নিয়ে বিরোধীদের ধোঁকাবাজির অভিযোগ
জুলাই-আগস্টের শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েও বিরোধী দলের নেতারা উপস্থিত হননি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট নিয়ে যারা সারাক্ষণ রাজনীতি করেন, তারা আমন্ত্রণ পেয়েও অনুষ্ঠানে না এসে ধোঁকাবাজির পরিচয় দিয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, গত ১৯ অক্টোবর রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে সরকারের উদ্যোগে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুস সালাম আমন্ত্রণপত্র পাঠানোর পাশাপাশি টেলিফোনেও আমন্ত্রণ নিশ্চিত করেছিলেন বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ মীর মুগ্ধ, আবু সাঈদ ও আনাসের বাবা এবং এক শহীদের মাকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিকায়ন করা ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করেন। স্মৃতিস্তম্ভে গেজেটভুক্ত ৮৩৪ জন শহীদের নাম রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দাওয়াত কার্ডে বিরোধীদলীয় নেতার নাম না থাকায় অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার যুক্তি নাকচ করে মীর শাহে আলম বলেন, প্রবীণ রাজনীতিবিদ মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় নেতা সাইফুল হক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও কার্ডে ছিল না। তবে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের মঞ্চে ডেকে নেন। বিরোধী দলের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত হলে তাঁদের মঞ্চে ডাকা হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় মানুষকে বেহেশতের লোভ দেখিয়ে ভোট চাওয়া এবং ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতি করা অনুচিত। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলগুলো এক দফার নামে দেশজুড়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বিএনপি কোনো বিশেষ ধর্ম বা গোষ্ঠীকে পুঁজি করে রাজনীতি করে না বলেও দাবি করেন তিনি।
বিরোধী দলকে আন্দোলন ও লং মার্চের পরিবর্তে সংসদে এসে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়া এবং প্রয়োজনে ওয়াকআউট করা গণতন্ত্রের অংশ। বিরোধী দলের এ অধিকার রয়েছে।
বাকস্বাধীনতার নামে অশালীন ভাষা ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। বিএনপির মধ্যে থেকে যারা দলের আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ড করছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি সদস্যপদ খালি রাখা হয়েছে। সংঘাতের পথ ছেড়ে কমিটিতে যোগ দিয়ে দ্রুত পাঁচজন প্রতিনিধির নাম দেওয়ার মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রেস ব্রিফিং শেষে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বগুড়ার শিবগঞ্জের কিচক হরিপুর গ্রামের ফিরোজার পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেন প্রতিমন্ত্রী।


