শিরোনাম

South east bank ad

পদ্মায় বাসডুবি, ১৬ লাশ উদ্ধার

 প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন   |   দেশ

পদ্মায় বাসডুবি, ১৬ লাশ উদ্ধার
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নদী পাড়ি দিতে অপেক্ষারত ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস ফেরির ধাক্কায় পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে যায়। গতকাল বুধবার বিকেল সোয়া ৫টায় দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত ডুবে যাওয়া বাস থেকে নারী ও শিশুসহ ১৪টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬।

দুর্ঘটনার পর ডুবুরিরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তবে বাস ডোবার আগে কমপক্ষে সাতজন যাত্রী বাস থেকে লাফিয়ে বের হতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গেছে। দৌলতদিয়া ঘাট সূত্র জানায়, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে বাসটি ছেড়েছিল দুপুর ২টা ১০ মিনিটে। বাসটির বেশির ভাগ যাত্রী ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন।
বাসটি দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ওই বাসটি নদীর তলদেশ থেকে ওপরে তুলে আনে। সরকারিভাবে বলা হয়েছে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এই ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে-কে আহ্বায়ক ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাসকে সদস্যসচিব করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক। তদন্ত কমিটিকে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে।

দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া প্রাথমিক দুজন হলেন রেহেনা বেগম (৬০) ও মর্জিনা বেগম (৫৫)। রেহেনার বাড়ি রাজবাড়ীর ভবানীপুরে।

বেগমের পুরো পরিচয় জানা যায়নি। চিকিৎসাধীন আছেন নুসরাত (২৯)। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে দুজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। অন্যজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

জানা গেছে, বাসটি ৪৫ জন যাত্রী নিয়ে কুষ্টিয়া থেকে রাজবাড়ী হয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যাত্রীবাহী বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর আনুমানিক ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায়। পরে গোয়ালন্দ ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট এবং আরিচা ফায়ার স্টেশনের আরো একটি ডুবুরি ইউনিট উদ্ধারকাজ শুরু করে। ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে আরো দুটি ডুবুরি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তবে রাতে বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছিল বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তারা বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে দুর্ঘটনার সংবাদ পান। পরে ডুবুরিরা ৫টা ২৬ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। স্থানীয় ও বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানান, ওই বাস থেকে সাতজন যাত্রী শুরুতেই বের হতে পেরেছেন।.
BBS cable ad