শিরোনাম

South east bank ad

আগামী গ্রীষ্মে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য

 প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৩ অপরাহ্ন   |   মন্ত্রী

আগামী গ্রীষ্মে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য
 আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সংকট সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে রুফটপ সোলার বা ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) উদ্যোগে ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনবিষয়ক মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ নিয়ে সাধারণ মানুষকে যে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, আগামী গ্রীষ্মে তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সরকার কাজ করছে। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণে মাত্র দুই মাসের মধ্যে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি এ নীতিমালা প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে না। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন, সক্ষমতা ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার ও ইউজিসি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্বন ক্রেডিট অর্জনের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কার্বন ক্রেডিট অর্জনে সহযোগিতা করবে বিদ্যুৎ বিভাগ। নির্ধারিত যাচাই ও স্বীকৃতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এসব ক্রেডিট বিক্রিরও সুযোগ রয়েছে।

দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে আগামী ৩ ও ৪ নভেম্বর ঢাকায় ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো’ আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের বিষয়ে উপাচার্যদের অংশগ্রহণে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করা এবং সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণের উদ্দেশ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইউজিসি ইতোমধ্যে জরিপ পরিচালনা করেছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি দল গঠন করেছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে, তবে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে না। পরিচালন ব্যয় কমাতে ওপেক্স (OPEX) মডেলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিচালন ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধে ব্যয় হয়। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো গেলে এ ব্যয় অনেকাংশে কমানো সম্ভব। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে ওপেক্স মডেলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনই উদ্যোগ নিলে আগামী এক মাসের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ শুরু করা সম্ভব। এ বিষয়ে উপাচার্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, চুক্তির খসড়া ও প্রাসঙ্গিক তথ্য সরবরাহ করবে ইউজিসি।

সভায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিন অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব তাহমিলুর রহমান সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও ওপেক্স মডেল নিয়ে পৃথক দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর, বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আবদুর রাজ্জাক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এনামুল্লাহ এবং ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া ইউজিসির সদস্য, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কমিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

BBS cable ad

মন্ত্রী এর আরও খবর: