উচ্চশিক্ষায় ‘ওয়ান হেলথ’ অন্তর্ভুক্তির পরামর্শ
মানবস্বাস্থ্য, প্রাণিস্বাস্থ্য ও পরিবেশকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিয়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতি উচ্চশিক্ষার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য ও চেয়ারম্যানের রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশে (এআইইউবি) আয়োজিত এক সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরামর্শ দেন। এআইইউবির সহযোগিতায় থার্ড ওয়ান হেলথ ইয়ুথ অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অধ্যাপক মাছুমা হাবিব বলেন, প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে রোগের সংক্রমণ, পরিবেশদূষণ, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জ কোনো একক খাতের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এসব সংকট মোকাবিলায় চিকিৎসক, ভেটেরিনারিয়ান, কৃষিবিজ্ঞানী, পরিবেশবিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, দ্রুত নগরায়ণ, জনঘনত্ব, পরিবেশদূষণ ও জলবায়ু ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। উদীয়মান সংক্রামক রোগের ৭৫ শতাংশের বেশি প্রাণী ও পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই মেডিকেল, নার্সিং, ফার্মেসি, মাইক্রোবায়োলজি, প্রাণিবিজ্ঞান, কৃষি, খাদ্যবিজ্ঞান ও পরিবেশবিজ্ঞানের পাঠ্যক্রমে ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণা অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ এবং এআইইউবিতে ওয়ান হেলথ সেন্টার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ ‘ওয়ান হেলথ’ বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
ইউজিসি সদস্য আরও বলেন, দক্ষ, নৈতিক ও উদ্ভাবনী মানবসম্পদ গড়ে তোলা ইউজিসির অন্যতম লক্ষ্য। ফলাফলভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, সমন্বিত চিন্তা, সমস্যা সমাধান ও সহযোগিতামূলক কাজের দক্ষতা বাড়াতে কমিশন কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে এআইইউবির ভিসি প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম, প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মো. আব্দুর রহমান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, স্বাস্থ্যসেবা খাতের পেশাজীবী ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


