স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কালক্ষেপণ করছে বিএনপি: আখতার হোসেন
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, সরকার গঠনের পরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা বলা হলেও বারবার সময় পেছানো হচ্ছে। কখনও ছয় মাস, কখনও অল্প সময়ের কথা বলে কালক্ষেপণ করছে বিএনপি।
বুধবার (২২ জুলাই) রাতে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার বানিনগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘জুলাই পথযাত্রা’ শেষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনে নিজেদের দলীয় লোক বসিয়ে রাখা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন না দিয়ে দলীয় লোক দিয়ে প্রশাসন চালানো মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, নখ কাটতে গিয়ে পুরো হাত কেটে ফেলার মতো পাতানো নির্বাচন আয়োজনের কোনো সুযোগ আর বাংলাদেশে নেই। বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে পুনরায় ছিনিমিনি খেলার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছাতে হলে প্রকৃত জনপ্রতিনিধিদের হাতেই ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
তিস্তা নিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় নানা উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হলেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। ভোটের সময় রাজনৈতিক দলগুলো তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোট পার হলেই তা ভুলে যায়। অনেক জায়গায় বড় বড় প্রকল্প নেওয়া হয়, কিন্তু উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের প্রাণরক্ষা ও উন্নয়নের প্রতীক তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা কারোর মনে থাকে না। ভোট চাওয়ার সময় এই রূপরেখার কথা মনে পড়ে, কিন্তু নির্বাচন পার হলে বাস্তবায়নের আর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না।
বর্তমান রাজনৈতিক ও নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অতীতে পাতানো নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, আর বর্তমানেও প্রকৃত গণতান্ত্রিক উপায়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে অনীহা দেখা যাচ্ছে। দেশ এখন এক ধরনের শূন্যতা ও অস্থিতিশীল পরিবেশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ যেখানে মৌলিক সংস্কার চায়, সেখানে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী তাদের নিজেদের লোক বসাতে তাড়াহুড়ো করে নির্বাচন চাইছে।
লালমনিরহাট জেলা এনসিপির সদস্য সচিব শাহ সুলতান নাসির উদ্দীন নাহিদের সভাপতিত্বে পদযাত্রায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা।


