চার কোটি মানুষকে সাক্ষরতার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যকর করা হবে
দেশের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা প্রায় চার কোটি মানুষকে সাক্ষরতা ও কার্যকর শিক্ষার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও ফলাফলভিত্তিক করার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার তেজগাঁওয়ে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে এখনো প্রায় ২২ শতাংশ মানুষ সাক্ষরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে রয়েছে। এর একটি বড় অংশ প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠী। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে যাওয়ার বয়সী অনেক শিশুও এখনো শিক্ষার মূলধারার বাইরে রয়েছে। এই জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা ও দক্ষতার মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোকে দেশের অন্যতম শক্তিশালী ও ক্ষমতায়িত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। চলমান কার্যক্রমকে আরও ফলাফলমুখী করার পাশাপাশি প্রকল্পগুলো রিস্কোপিং, রিডিজাইনিং ও রিফোকাসিং করতে হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না এবং প্রত্যেক শিশু সঠিক শিক্ষা পাবে—এটাই সরকারের লক্ষ্য। শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে তারা নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারে।
শিক্ষা খাতে বাজেটের যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শুধু ভবন নির্মাণে নয়, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিশুদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা, সাক্ষরতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নে বাজেটের অর্থ ব্যয় করতে হবে।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু সাক্ষরতার হার বাড়ানো যথেষ্ট নয়। এমন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, যা মানুষের জীবনমান উন্নত করবে, মূল্যবোধ তৈরি করবে এবং কর্মজীবনে কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা সৃষ্টি করবে।
অনুষ্ঠানে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাতের সভাপতিত্বে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার, অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


