শিরোনাম

South east bank ad

চিংড়ি মহাল পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত, মওকুফ হবে সুদ

 প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৩ অপরাহ্ন   |   মন্ত্রী

চিংড়ি মহাল পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত, মওকুফ হবে সুদ
সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি, চিংড়ি ঘের ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো এবং দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা নিরসনে চিংড়ি মহাল কমিটি পুনর্গঠন ও নতুন খাজনা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ইতোপূর্বের অপরিশোধিত সুদ সম্পূর্ণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর)  সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চিংড়ি মহালের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। কোনো লিজকৃত জমি নিয়ে মামলা চলমান থাকলেও আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকার রাজস্ব আদায় অব্যাহত রাখতে পারবে। চিংড়ি চাষের উপযোগী খাসজমি দ্রুত বন্দোবস্ত এবং চিংড়ি মহাল কমিটিগুলো পুনর্গঠনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় বন নির্ধারণ ও সীমানা চিহ্নিত করে পরিবেশ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় চিংড়ি খাত থেকে সরকার বিপুল রাজস্ব হারিয়েছে। একই সঙ্গে চাষিরাও নানা সমস্যার মুখে পড়েছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি সংশোধন করা হবে। রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি এ খাতের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকা সুরক্ষাও সরকারের লক্ষ্য।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, চিংড়ি মহাল থেকে কার্যকরভাবে রাজস্ব আদায় এবং অতীতের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। চিংড়ি ঘের ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো এবং ভূমি মন্ত্রণালয়কে স্বচ্ছ ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করা হচ্ছে।

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে, বন নেই এমন জমি বন বিভাগের গেজেট থেকে বাদ দিয়ে চিংড়ি চাষের জন্য অবমুক্ত করা, বন, মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রণালয়ের কাছে থাকা ১ লাখ ৯৫ হাজার একর জমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ এবং ১৯৯২ সালের চিংড়ি মহাল কমিটি পুনর্গঠন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বেলা) দায়ের করা ৭৪৮৩/২০১২ নম্বর রিট মামলার কারণে ২০১২-১৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত স্থগিত থাকা কক্সবাজারের ১ হাজার ৪৬৬টি চিংড়ি মহালের কার্যক্রম সচল করতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। নতুন খাজনা নির্ধারণ এবং পূর্বের অপরিশোধিত সুদ মওকুফের সিদ্ধান্তও হয়েছে।

সভায় ভূমি সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, কক্সবাজারের তিনটি আসনের সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

BBS cable ad

মন্ত্রী এর আরও খবর: