ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ চান বিজ্ঞানমন্ত্রী
সোমবার (২৪ আগস্ট) ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী, জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবনমুখী অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
আজ ঢাকার শেরাটন গ্র্যান্ড বলরুমে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘Developing Innovation Ecosystem Towards a Trillion-Dollar Economy’ শীর্ষক নেটওয়ার্কিং সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, উচ্চ মূলসংযোজনী শিল্প ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি যুক্ত না হলে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হবে। বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবন ব্যবসায় রূপ দিতে প্রযুক্তি হস্তান্তর, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের সীমাবদ্ধতা দূর করা প্রয়োজন।
তিনি জানান, উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে একটি ‘এন্ড-টু-এন্ড ইনোভেশন ইকোসিস্টেম’ তৈরি করছে সরকার। তরুণদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ স্টার্টআপ তহবিল গঠন করা হয়েছে।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে বাণিজ্যিকীকরণ, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি গ্রহণে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। সিলেট, রাজশাহী ও যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় হাই-টেক ও ইনোভেশন পার্কে শিল্প স্থাপনের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আগামী ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার নভোথিয়েটারে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হবে। এতে ব্যবসায়ীদের নিজস্ব প্রযুক্তি প্রদর্শন, উদ্ভাবকদের মেন্টরিং ও ইনকিউবেশনে সহায়তা এবং বাণিজ্যিকীকরণের প্রতিবন্ধকতা ও অর্থায়ন ঘাটতি চিহ্নিত করে সরকারকে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
সভাপতির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, উদ্ভাবক, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, স্টার্টআপ, শিল্প খাত, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের এক প্ল্যাটফর্মে এনে প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ ত্বরান্বিত করাই ইনোভেশন ফেয়ারের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে শিল্পের বাস্তব সমস্যা সমাধানে কাজে লাগাতে ‘রিসার্চ টু মার্কেট’ কার্যক্রম জোরদার করা হবে। পাশাপাশি এআই, সেমিকন্ডাক্টর, ন্যানোটেকনোলজি ও বায়োটেকনোলজির মতো উদীয়মান প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সময় বায়োটেক পার্ক স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়ার কথাও জানান তিনি।
নেটওয়ার্কিং সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


