সংস্কারের যৌক্তিক জায়গায় পৌঁছাতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন: আইনমন্ত্রী
সোমবার (২৪ আগস্ট) আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সরকার গঠনমূলক সমালোচনা ও যৌক্তিক পরামর্শকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে। সমালোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে সংস্কারের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে চায় সরকার। সংস্কারের যৌক্তিক জায়গায় পৌঁছাতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
আজ রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘Beyond the Ballot: Between Promise and Performance—নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের সমালোচনা করার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে এবং এ অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি পালন ও সরকারের সমালোচনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ।
তিনি বলেন, এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে কথা বলতে পারে। মতপ্রকাশের কারণে লেখক, সাংবাদিক, কার্টুনিস্টসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে হয়রানি বা গ্রেপ্তারের অতীত সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা চলছে।
আইন ও নীতিমালার কোনো বিষয়কে সরকার চূড়ান্ত মনে করে না জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো আইন প্রয়োগের পর সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দিলে সরকার তা সংশোধনে উন্মুক্ত থাকবে। মানুষের প্রয়োজনেই আইন প্রণয়ন করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা পরিবর্তন করা যায়।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদকে সামনে রেখে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। তবে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখেই যেকোনো সংশোধন করতে হবে। সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শের প্রয়োজন রয়েছে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দক্ষতা ও কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। কোনো বিচারিক আদেশ নিয়ে আপত্তি থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আপিল বা রিভিশনের সুযোগ রয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কমিশন গঠন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের দায়িত্ব পালনে ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে। তবে লক্ষ্য হলো স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে সংস্কারের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন, “আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই, পিছনে ফিরতে চাই না।” রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


