শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ, সতর্ক সরকার
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
একই সঙ্গে সরকারও পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও জনমতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য ও পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনভর আন্দোলন শেষে রাত ১০টার দিকে আন্দোলন শেষ করে আবারও বুধবার (১৫ জুলাই) কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। প্রয়োজনে তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লং মার্চ করবেন বলে ঘোষণা দেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি করেছেন। সেই ব্যাপারেও বলতে চাই, আমি কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু বলিনি।
যদি কেউ আহত হয়ে থাকেন, সিম্পলি আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এ সময় উপস্থিত সংসদ সদস্য টেবিল চাপড়ে মন্ত্রীর এই দুঃখপ্রকাশকে স্বাগত জানান।
সম্প্রতি বৃষ্টির মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন এবং এক পরীক্ষার্থীর সঙ্গে কথোপকথনে শিক্ষামন্ত্রীর ‘ফার্মের মুরগি’ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই মন্তব্যের জেরে তার পদত্যাগ, পরীক্ষা স্থগিতসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনকারীরা মন্তব্য প্রত্যাহার, প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিকার দাবি করেন।
রাজধানীতে সায়েন্সল্যাব মোড়, শাহবাগ, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে, উত্তরা বিএনস সেন্টার এবং জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে দিনভর আন্দোলনের কারণে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে প্রতিবাদে অংশ নেন। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের প্রতি অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্রে ভুল, বন্যা ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
সংসদে দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরে এসে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যেসব কেন্দ্রে পরীক্ষা নিয়ে বাস্তব সমস্যা বা ত্রুটি হয়েছে, সেসব বিষয়ে আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সরকারের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করা নয়, বরং তাদের শিক্ষাজীবন স্বাভাবিক রাখা।
এদিকে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ থেকে শিক্ষা নিয়ে জনসম্মুখে দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সংযত থাকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিরোধী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। তবে সংসদে দুঃখ প্রকাশের পর পরিস্থিতি কিছুটা ইতিবাচক দিকে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও সংবেদনশীল অবস্থান নেওয়ার দিকেই জোর দিচ্ছে সরকার।
উসকানি, বাড়তি সতর্কতা
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ছাত্র বিক্ষোভকে উসকে দিতে ভুয়া খবর ছড়ানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের পক্ষে স্লোগান শোনা গেছে। পাশাপাশি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষে কিছু শিক্ষার্থীকে কথা বলতেও শোনা যায়।


