শিরোনাম

South east bank ad

সাবেক এমপি মহিউদ্দীন, তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা

 প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন   |   দুদক

সাবেক এমপি মহিউদ্দীন, তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা
পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দীন মহারাজ, তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম ও ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পিরোজপুরে এসব মামলা করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা যায়, তিন মামলায় মহিউদ্দীন মহারাজ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন এবং সেই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে স্থানান্তর ও বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থের উৎস গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মো. মহিউদ্দীন মহারাজকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন।
অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ছিলেন দুদকের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম।

এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মহিউদ্দীন মহারাজ নিজের নামে ১২২টি দলিলে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, মার্কেট ও দোকান কিনেছেন। এসব স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ২৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে সঞ্চয়, ব্যবসায় বিনিয়োগ, কোম্পানির শেয়ার ক্রয় এবং দুটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনাসহ প্রায় ১৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।
সব মিলিয়ে তার অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। একই সময়ে পারিবারিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ফলে মোট সম্পদ ও ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। তবে দুদকের অনুসন্ধানে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা।
ফলে প্রায় ৫১ কোটি ২৭ লাখ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যাংকে প্রায় ৫৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা জমা দিয়ে এবং বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে প্রায় ৫৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা স্থানান্তর ও বিনিয়োগ করে অর্থের উৎস গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় অপরাধ।

মহিউদ্দীন মহারাজের স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রায় ৭ কোটি টাকার অসংগতিপূর্ণ সম্পদের অভিযোগ :

এই মামলায় মহিউদ্দীন মহারাজের স্ত্রী উম্মে কুলসুমকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি করেছেন দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। দুদক বলছে, উম্মে কুলসুমের নামে জমি, ফ্ল্যাট ও দোকানসহ প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে।
পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকে সঞ্চয় ও ব্যবসায় বিনিয়োগসহ প্রায় ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। সব মিলিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। পারিবারিক ব্যয়সহ মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটি ৫ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, তার গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ২ কোটি ৬ লাখ টাকা। এতে প্রায় ৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দুদকের ভাষ্য, গৃহিণী স্ত্রী ও শিক্ষার্থী ছেলেকে ব্যবসায়ী হিসেবে দেখিয়ে অবৈধ আয়ের অর্থ বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

মহিউদ্দীন মহারাজের ছেলের নামে সম্পদ, বাবার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ :

এই মামলায় মহিউদ্দীন মহারাজ ও তার ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতি আসামি করা হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ইফতির নামে জমি ও দোকানসহ প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং প্রায় ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। পারিবারিক ব্যয়সহ তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। কিন্তু তার গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এতে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদকের দাবি, ইফতি একজন শিক্ষার্থী হওয়ায় তার নিজস্ব আয়ের উৎস নেই। মূলত মহিউদ্দীন মহারাজের অবৈধ উপার্জনের অর্থ তার ছেলের নামে দেখিয়ে আয়ের উৎস গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে।

সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ :

দুদক জানিয়েছে, পিরোজপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ‘পারমিশন পিটিশন নম্বর ০৭/২০২৫’-এর আদেশে মহিউদ্দীন মহারাজ, তার স্ত্রী ও ছেলের নামে অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ইতোমধ্যে ক্রোক করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডারে অংশ নিয়ে কাজ না করেই প্রায় এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মহিউদ্দীন মহারাজ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আরও আটটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার তদন্ত বর্তমানে চলমান রয়েছে।
BBS cable ad