আড়াই মাসে মন্ত্রিসভায় নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭১ শতাংশ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের আড়াই মাসে মন্ত্রিসভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার প্রায় ৭১ শতাংশ।
সচিবালয়ে গতকাল অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভায় এ অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনে জানানো হয়, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থাৎ ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সাতটি মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়। এসব বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭০ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
এদিকে জাপান ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর’ শীর্ষক চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া সাতটি প্রধান বৃহৎ বিড়াল প্রজাতির সুরক্ষায় গঠিত বৈশ্বিক জোট ‘ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স’-এর (আন্তর্জাতিক বৃহৎ বিড়াল জোট) ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিতে স্বাক্ষরের প্রস্তাবও অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাপান ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর’ সংক্রান্ত চুক্তি অনুসম্পাদনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। অন্যদিকে ‘ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স’-এর ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিতে স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদনের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাঘ, সিংহ, চিতাবাঘ, তুষার চিতাবাঘ, পুমা, জাগুয়ার ও চিতা—এ সাতটি প্রধান বৃহৎ বিড়াল প্রজাতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ অ্যালায়েন্স গঠিত হয়। বর্তমানে ২৪টি জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রসহ বেশকিছু দেশ এ জোটের সদস্য।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেয়া এ চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো সদস্য দেশগুলোর বৃহৎ বিড়াল প্রজাতির বাসস্থান সুরক্ষা, অবৈধ শিকার ও বাণিজ্য প্রতিরোধ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা। বাংলাদেশ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অন্যতম প্রধান আবাসস্থল হওয়ায় সুন্দরবনের পরিবেশ-ব্যবস্থা (ইকো-সিস্টেম) ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের বিষয়টি বিবেচনা করে এ চুক্তিতে স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনের জন্য বৈশ্বিক চুক্তি’ (গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খসড়া ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০)’ অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এ বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে ২০১৮ সালে জাতিসংঘে এ বৈশ্বিক চুক্তি গৃহীত হয়। বাংলাদেশসহ ১৬৪টি রাষ্ট্র এর পক্ষভুক্ত। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ২০২০ সালে বাংলাদেশকে এ চুক্তির ‘চ্যাম্পিয়ন দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। আইওএমের সহযোগিতায় অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জন্য এ খসড়া জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।


