গাইবান্ধায় যৌথবাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার ৫

গাইবান্ধার সাঘাটায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে যৌথবাহিনীর সদস্যরা। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেফতার ও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স) ইবনে মিজান। এর আগে গতকাল সোমবার রাতে সাঘাটা এলাকা থেকে তাদের পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।
নিহতরা হলেন- গোবিন্দী এলাকার রোস্তম আলীর ছেলে সোহরাব হোসেন আপেল (৩৫) ও একই এলাকার মালেক উদ্দিনের ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪৫)।
এছাড়া বাকি গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সাঘাটার গোবিন্দী এলাকার মৃত আব্দুল গনি মিয়ার ছেলে সাঘাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সুইট (৪৫), সাঘাটা ইউনিয়নের ভরতখালীর বাঁশহাটি এলাকার সেরায়েত আলীর ছেলে শাহাদাৎ হোসেন পলাশ (৪৫) ও উত্তর সাথালিয়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম রকি (২৮)।
পুলিশ জানায়, সোমবার ভোররাতে সাঘাটা উপজেলার সাঘাটা ইউনিয়নের গোবিন্দী গ্রামে অভিযান চালায় যৌথবাহিনীর সদস্যরা। এ সময় চেয়ারম্যান সুইটসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পরেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে পাঁচজনকেই সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শফিকুল ইসলাম ও রিয়াজুল ইসলামকে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান (শজিমেক) মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং মোশারফ হোসেন সুইট, সোহরাব হোসেন আপেল ও শাহাদাৎ হোসেন পলাশকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়।
তাদের মধ্যে শফিকুল ইসলাম সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শজিমেক হাসপাতালে এবং সাড়ে ১১টার দিকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে সোহরাব হোসেন আপেলের মৃত্যু হয়।
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স) ইবনে মিজান বলেন, গ্রেফতারের পর তারা আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েন এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাদেরকে সাঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে তিনজনকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল এবং দুইজনকে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে মঙ্গলবার সকালে শজিমেকে শফিকুল এবং গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে আপেলের মৃত্যু হয়। বাকি তিনজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুস্থ রয়েছেন।