শিরোনাম

South east bank ad

গুলশানে কথিত ‘জার্মান ক্লাবে’ ডিএনসির অভিযান, বিপুল মদ-বিয়ার জব্দ, বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

 প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৯ অপরাহ্ন   |   মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর

গুলশানে কথিত ‘জার্মান ক্লাবে’ ডিএনসির অভিযান, বিপুল মদ-বিয়ার জব্দ, বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য


রাজধানীর গুলশানে ‘জার্মান ক্লাব’ নামে পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মো. আতাউর রহমান শামীমকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এছাড়া প্রাথমিক তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত নাম সেভেনটি এইট রেস্টহাউজ সোসাইটি বলে জানিয়েছে ডিএনসি। সেখানে ‘জার্মান ক্লাব’ নামে কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার সকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গুলশান-২ নম্বরের ১০৪ নম্বর সড়কের ২৪ নম্বর বাসায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালানো হয়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মো. আতাউর রহমান শামীমকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মো. ওমর জামিল (৪৫) নামে আরেক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে ডিএনসি। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তাকে পলাতক দেখিয়ে বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

গুলশানে কথিত ‘জার্মান ক্লাবে’ ডিএনসির অভিযান, বিপুল মদ-বিয়ার জব্দ, বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডিএনসি জানায়, প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো বার লাইসেন্স ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বিদেশি মদ মজুত এবং পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করা হচ্ছিল—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২২৩ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়, যার পরিমাণ ১৭৭ লিটার। এ ছাড়া ২০৯টি বোতল ও ক্যান থেকে মোট ৬৭ লিটার বিয়ার জব্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে জব্দ করা মদ ও বিয়ারের পরিমাণ ২৪৪ লিটার।
 
ডিএনসির প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো। এসব পার্টিতে অংশগ্রহণকারীদের কাছে অবৈধভাবে বিদেশি মদ, বিয়ারসহ বিভিন্ন মাদক সরবরাহ করা হতো বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।


অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার আতাউর রহমান শামীমকে আটক করার পর গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দ করা মদ ও বিয়ারের বৈধতার প্রমাণ চাওয়া হলে তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে জানিয়েছে ডিএনসি।


ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদ হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয় এবং ঢাকা মেট্রো উত্তর ও দক্ষিণ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।


এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আতাউর রহমান শামীম, পলাতক ওমর জামিল এবং অজ্ঞাতনামা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণি ২৪(গ) ও ৪১ ধারায় গুলশান থানায় মামলা করা হয়েছে। জব্দ করা আলামত ও রাসায়নিক পরীক্ষার নমুনা ডিএনসির হেফাজতে রয়েছে।



পলাতক আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি কথিত ‘জার্মান ক্লাব’-এর পরিচয়ের আড়ালে পরিচালিত কার্যক্রমের প্রকৃত স্বরূপ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
 
BBS cable ad

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর এর আরও খবর: