জলবায়ু পরিবর্তনে মানবাধিকার রক্ষায় রোডম্যাপ চায় নাগরিক সমাজ
শনিবার (২৯ আগস্ট) জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্মুখসারির জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানবাধিকার সুরক্ষায় সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিয়মিত নজরদারি এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
আজ রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ ‘বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে সুরক্ষায় ইউপিআর-৪ সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা’ শীর্ষক জাতীয় অ্যাডভোকেসি সেমিনারে এ আহ্বান জানানো হয়।
সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গার (এসিএফ) এবং ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশ যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ১২টি সুপারিশ গ্রহণ করেছে। এসব সুপারিশ কতটা নীতি, কর্মসূচি ও বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নিয়েছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নূরুন নাহার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান ভূমিকা রাখছে। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্মুখসারির জনগোষ্ঠী এর সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছে।
সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী ও ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশের জাতীয় সমন্বয়ক মো. শামসুদ্দোহা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে সরকারের অঙ্গীকারগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছে, তা অনুসরণ করার দায়িত্ব নাগরিক সমাজের রয়েছে।
বক্তারা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়, নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত অ্যাডভোকেসি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
সেমিনারে জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় বিভিন্ন নীতিগত ও বাস্তবায়ন ঘাটতি নিয়ে বিশেষজ্ঞ প্যানেল আলোচনা হয়। পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ ও জনমত গঠনে নাগরিক সমাজের একটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভবিষ্যৎ কর্মকৌশলের জন্য কর্মপরিকল্পনা তৈরির কথাও জানানো হয়।


