নবগঠিত বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে কাল
বগুড়া এখন আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের ১৩তম সিটি কর্পোরেশন। আগামীকাল বুধবার থেকেই বগুড়া পৌরসভার পরিবর্তে সিটি কর্পোরেশন হিসেবে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার (১৯ মে) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নবনিযুক্ত প্রশাসকের আনুষ্ঠানিক যোগদান অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো। গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী বগুড়া সফরে গিয়ে নবগঠিত সিটি কর্পোরেশনের ফলক উন্মোচন করেন।
পরে একনেকের অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি কার্যকর হয়।
তিনি আরও বলেন, পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হওয়ায় বগুড়ায় নাগরিক সেবার পরিধি অনেক বাড়বে।
উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, অবকাঠামো নির্মাণ, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, ফ্লাইওভার ও ওভারপাস নির্মাণসহ বড় ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বগুড়া পৌরসভা ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এবং এর জনসংখ্যা প্রায় চার লাখ। আয়তনের দিক থেকে এটি রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের চেয়েও বড়।
তিনি জানান, বগুড়ার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য ভবিষ্যতে ওয়াসা গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি রাজউক বা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আদলে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংক্ষেপে এর নাম হবে ‘বউক’।
এসময় তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন তো নিজস্ব আইন কাঠামোর মধ্যে থেকে ব্যাপক উন্নয়ন করতে পারবে। যেহেতু বগুড়া বিভাগীয় শহর না এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকাটা আগে থেকেই পাঁচটি থানা দ্বারা বিভক্ত তাই বগুড়ার মানুষের দাবি অনুযায়ি, এটি ভবিষ্যতে একটি মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটি হওয়ার একটি সম্ভাবনা রয়েছে।
নবনিযুক্ত প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, দায়িত্ব পাওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি বগুড়াকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, প্রাথমিক বরাদ্দ দিয়ে পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ শুরু করা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।


