শিরোনাম

South east bank ad

জলবায়ু স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়লেও কমছে বাজেট

 প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ অপরাহ্ন   |   সারাদেশ

জলবায়ু স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়লেও কমছে বাজেট

শনিবার (৬ জুন)  জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমাগত বাড়লেও স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট বাজেট বরাদ্দ কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নীতিনির্ধারক, গবেষক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে জলবায়ু-স্বাস্থ্য খাতে অধিক বিনিয়োগ ও টেকসই অর্থায়নের দাবি জানিয়েছেন।

আজ রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), HEKS/EPER এবং সুশীলনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত “বাংলাদেশে জলবায়ু-সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য অর্থায়ন” শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের নীতিসংলাপে এ দাবি জানানো হয়।

সংলাপে উপস্থাপিত গবেষণায় দেখা যায়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের মোট বাজেটের মধ্যে জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ FY ২০২১–২২ অর্থবছরের ২.৭৪ শতাংশ থেকে FY ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কমে ১.৯৭ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে জাতীয় জলবায়ু বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের অংশও প্রায় ২.৫ শতাংশ থেকে ১.৫ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে।

সিপিআরডির দুটি গবেষণায় উঠে আসে, উপকূলীয় অঞ্চলের নারী ও কিশোরীরা দারিদ্র্য, নিরাপদ পানির সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গুরুতর প্রজনন ও মাতৃস্বাস্থ্য সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। গবেষণায় অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক নারী অনিয়মিত মাসিক, তীব্র ব্যথা, অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

 এছাড়া ৮২.৫ শতাংশ নারী নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণের সীমিত প্রাপ্যতাকে এসব সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আরেকটি গবেষণায় বলা হয়, জলবায়ু নীতিমালায় স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাজেট বরাদ্দে প্রতিফলিত হয়নি। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের মোট অর্থায়নের এক শতাংশেরও কম স্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত অর্থায়নপ্রাপ্ত ৮৭৭টি প্রকল্পের মধ্যে মাত্র তিনটি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়, জলবায়ু-স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৬০ শতাংশের বেশি উন্নয়ন প্রকল্পে কেন্দ্রীভূত থাকায় রোগ নজরদারি, জরুরি প্রস্তুতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সহনশীলতা তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো পর্যাপ্ত অর্থায়ন পাচ্ছে না।

সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, জলবায়ু অর্থায়নে বৈশ্বিক মনোযোগ বাড়াতে শক্তিশালী পরিমাণগত প্রমাণ উপস্থাপন জরুরি এবং জলবায়ু-স্বাস্থ্যকে শুধু নিরাপদ পানীয় জলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব ড. শাহ আবদুল সাদী আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন আহরণের জন্য শক্তিশালী ‘ক্লাইমেট র্যাশনাল’ প্রতিষ্ঠা, জলবায়ু বাজেট ট্যাগিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং তৃতীয় পক্ষীয় যাচাই ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করেন।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড হেলথ প্রমোশন ইউনিটের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. ইকবাল কবির বলেন, বিশ্বব্যাপী মোট জলবায়ু অর্থায়নের মাত্র ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে আসে, যা এই খাতের বৈশ্বিক অবহেলার চিত্র তুলে ধরে।


নীতিসংলাপ শেষে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার অগ্রাধিকার অন্তর্ভুক্ত করা, জলবায়ু বাজেট ট্র্যাকিং ব্যবস্থা উন্নত করা, রোগ নজরদারি ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে পুনরাবৃত্ত অর্থায়ন বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যখাত-নেতৃত্বাধীন অভিযোজন উদ্যোগে দেশীয় জলবায়ু অর্থায়নের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।
BBS cable ad

সারাদেশ এর আরও খবর: