‘ছেলের হাতে মা নুরজাহান বেগম হত্যার’ রহস্য উন্মোচনের দাবি পিবিআইয়ের

কুমিল্লার বুড়িচং থানার জগতপুর এলাকার বহুল আলোচিত ‘ছেলের হাতে মা নুরজাহান বেগম হত্যার’ রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত নিহতের ছেলে প্রধান অভিযুক্ত হৃদয় ওরফে রবিউল আউয়ালকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
রবিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলা পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে সেটি পরিষ্কার করেনি তদন্ত সংস্থাটি।
গ্রেপ্তার হৃদয় ওরফে রবিউল আউয়াল কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার জগতপুর গ্রামের মৃত অলি আহাদের ছেলে। শনিবার বেলা পৌনে ১১টায় দেবিদ্বার থানার শিবপুর জলিল মার্কেটের সামনে থেকে হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর আছরের নামজের পর নুরজাহান কুমিল্লা তার ছেলে আব্দুল হকের বুড়িচংয়ের বাসায় যান। আব্দুল হকের বাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে যেকোন জায়গায় দুর্বৃত্তদের কবলে পড়েন তিনি। তার আরেক ছেলে হৃদয়সহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজসে নুরজাহানকে দুই পায়ের রগ, বাম কান, মুখের বাম পাশে ও গলার ডান পাশে আঘাত করে হত্যা করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে হত্যার পর লাশ ফেলে যায়।
পরের দিন সকালে ময়নাল হোসেনের ধানের জমিতে নুরজাহানের ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে সেলিনা বেগম তিনজনের নামসহ অজ্ঞাতনামা চারজন আসামির বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় একটি মামলা করেন।
পিবিআই জানায়, মামলাটি বুড়িচং থানা পুলিশ প্রায় ১১ মাস তদন্ত করে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। পরে বাদি এই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দিলে আদালত মামলাটির পরবর্তী তদন্ত কার্যক্রম জেলা প্রধান পিবিআই কুমিল্লাকে করার নির্দেশ দেন। এরপর মামলাটির তদন্ত করেন পিবিআইয়ের এসআই মো. শাহাদাত হোসেন। দীর্ঘ দুই বছর নয় মাস পর পলাতক আসামি হৃদয়কে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তিনি।
এ ব্যাপারে পিবিআইয়ের কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এই হত্যা মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে থানা পুলিশ তদন্ত করেছে। পরে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে নিহতের ছেলে হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে হত্যার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।’