পরীক্ষা ছাড়া উপসচিব ও যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি নয়

জনপ্রশাসনে উপসচিব ও যুগ্ম সচিব পদে পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতির সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। এছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে ক্যাডার থেকে বাদ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
গতকাল সচিবালয় বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের মতবিনিময় সভায় কমিশনের প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। মতবিনিময় সভায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সদস্য সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী বলেন, ‘পরীক্ষা ছাড়া সিভিল সার্ভিসের উপসচিব ও যুগ্ম সচিব পর্যায়ে কেউ পদোন্নতি পাবেন না। কমিশন পরীক্ষা নেবে, ৭০ মার্ক না পেলে পদোন্নতি পাবেন না। প্রতিটি টায়ারে (উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে) এটি হবে না, উপসচিব ও যুগ্ম সচিব এ দুই পর্যায়ে (পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতি) হবে। এর পরের পর্যায়ে সরকার পদোন্নতি দিতে পারবে। পরীক্ষায় একজন কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তা যদি সবচেয়ে বেশি নম্বর পান, তিনি তালিকায় এক নম্বরে চলে আসবেন। উপসচিবের তালিকায় এক নম্বরে আসবেন।’
কমিশনপ্রধান এ নিয়ে আরো বলেন, ‘উপসচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য ৫০ ও অন্য ক্যাডার থেকে ৫০ শতাংশ কর্মকর্তা নেয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা ৭৫ শতাংশ ও অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা ২৫ শতাংশ পদোন্নতি পেয়ে থাকেন।’
যেকোনো চাকরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশন যেন না থাকে সে বিষয়ে সুপারিশ করা হবে বলে জানান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিকে অযৌক্তিক মন্তব্য করে আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী জানান, এগুলো বিশেষায়িত বিভাগ, এগুলো ক্যাডার থেকে বাদ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মতো স্বাস্থ্য ও শিক্ষার জন্য আলাদা কমিশন করার পক্ষে মতামত তুলে ধরবে সংস্কার কমিশন। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা আলাদা। আমরা সুপারিশ করছি, এগুলো ক্যাডারে রাখা যাবে না, অযৌক্তিক। যেমন একজন চোখের চিকিৎসক, একজন দাঁতের চিকিৎসক, আরেকজন জেনারেল ফিজিশিয়ান—পদোন্নতি কি তারা একসঙ্গে পাচ্ছেন? পাচ্ছেন না। সেজন্য আমরা বলেছি, এগুলো ক্যাডারে রাখা যাবে না। এটা আমাদের চিন্তা যে এগুলোকে ক্যাডার করা অযৌক্তিক হয়েছে। এগুলো আলাদা করতে হবে। বেতন বাড়িয়ে দেয়া হোক, এটা বিশেষায়িত বিভাগ। এ দুই বিভাগ ছাড়া বাকি সব বিভাগেই ক্যাডার থাকতে পারবে। এখন আমরা বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করব।’
সংস্কার কমিশন বিগত সরকারের সময় কুমিল্লা ও ফরিদপুর নামে দুটি বিভাগ করার প্রক্রিয়ার পক্ষেও সুপারিশ করবে। মোখলেস উর রহমান বলেন, ‘ফরিদপুর ও কুমিল্লা এলাকার লোকজনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংস্কার কমিশন দুটি জেলায় বিভাগ প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ দুটি বিভাগ করতে গেলে দু-একটা জেলা এ বিভাগ থেকে ওই বিভাগে দিতে হবে, আমরা ম্যাপ করে দিয়েছি।’
ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহের পর দেশের নবম ও দশম বিভাগ হতে পারে ফরিদপুর ও কুমিল্লা।