শিরোনাম

South east bank ad

স্থানীয় নির্বাচনে সেনা না রাখার পরিকল্পনা ইসির

 প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন   |   নির্বাচন কমিশন

স্থানীয় নির্বাচনে সেনা না রাখার পরিকল্পনা ইসির

 
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত না রাখার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরকে টার্গেট করে নির্বাচনের প্রস্তুতি গুছিয়ে নিচ্ছে সংস্থাটি।


তবে এতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো সেনা মোতায়েনের কথা ভাবা হচ্ছে না।
জানা গেছে, ১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৫০টির মতো উপজেলা পরিষদ, তিন শতাধিক পৌরসভা, প্রায় ছয়শ ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৬১টি জেলা পরিষদ বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী।


এদিকে আগামী জুলাই মাসের মধ্যে আরও দুই হাজার আটশর মতো ইউনিয়ন পরিষদে তফসিল ঘোষণার সময়োপযোগী হবে। সরকার ইতোমধ্যে ১২টি সিটিসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগ করেছে।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ১৩ নম্বর হিসেবে বগুড়া সিটি গঠিত হয়েছে। সেটার সীমানার কারণে কোনো ইউপি বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সীমানা পরিবর্তন হলো কি না, তা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা রয়েছে কি না, থাকলে তা তফসিলের আগেই সুরাহা করতে হবে।

এছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানেও কোনো পৌরসভা, উপজেলা বা অন্য কোনো স্থানীয় সরকারের সীমানা নিয়ে মামলা হলে সে তথ্যও জানাতে হবে।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হলেও তার গেজেট এখনো পায়নি ইসি। এক্ষেত্রে গেজেট পাওয়ার পর সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন বিধিমালাগুলো সংশোধন করবে। বর্তমানে এ নিয়ে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের নেতৃত্বে আইন সংস্কার কমিটি কাজ করছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বৈঠকও সম্পন্ন হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক প্রমাণের বিষয়টি বাদ দেওয়া, ইভিএম বাদ, পোস্টার বাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার, জামানত বৃদ্ধি, নির্বাচন প্রচারে উপজেলায় এমপিদের অফিস ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় অপপ্রচার নিষেধসহ বিভিন্ন সংশোধনী আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওই কমিটি। আইনের গেজেট পাওয়ার পরপরই সিদ্ধান্ত নিতে কমিশন বৈঠকে সেগুলো তোলা হবে।

ইসি সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্ষা শেষ হতে সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে যাবে। এখনো অনেক কাগুজে কাজ বাকি। বাজেট এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সরকারের প্রস্তুতির বিষয় আছে। কমিশনের বিধিবিধান সংশোধনেও কয়েক মাস লেগে যেতে পারে। তারওপর কোনো মামলা বা আইনি জটিলতা থাকলে নির্বাচন গিয়ে গড়াতে পারে নভেম্বর-ডিসেম্বরে দিকে। এছাড়া শীত মৌসুমে ভোটের জন্যও উপযুক্ত পরিবেশ থাকে।

ইতোমধ্যে নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমের পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন— এ পাঁচ ধরনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা সরকারের। বাজেট প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে বেশি অর্থের প্রয়োজন পড়ে এমন স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরে করা হবে। এজন্য প্রথমে হতে পারে ইউপি নির্বাচন। শুধু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করতেই প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাজেট পাস হওয়ার পর নতুন অর্থবছর শুরু হলে নির্বাচনের চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে আলোচনায় বসবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নির্বাচনে প্রস্তুতির জন্য আমাদের সামনে এখন বিধিমালা সংশোধনের কাজ পড়ে আছে। প্রয়োজনে আমরা অংশীজনদের সঙ্গেও বসতে পারি। এক্ষেত্রে সবার সঙ্গে আলোচনা করেই বিধিমালার সংশোধন আনা হবে। আগামী এক বছরের মধ্যেই স্থানীয় নির্বাচন করে ফেলতে পারব বলে আশা করি।

স্থানীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সংসদ নির্বাচনের মতো সশস্ত্র বাহিনীর মোতায়েন করা হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমনটা আমরা ভাবছি না। সময় আসুক, তখন কমিশন বসে সিদ্ধান্ত নেবে।
BBS cable ad